1. admin@upokulbarta.news : admin :
রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ০১:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আদালত ঢোল পিটিয়ে জমি বুঝিয়ে দিলেও চলছে হামলা ও লুটপাট সাধারণ শিক্ষার্থী ও দলের কল্যাণে কাজ করতে চান ছাত্রনেতা বাচ্চু বিএনপির গণসমাবেশ উপলক্ষে মোহনপুরে লিফলেট বিতরণ ও প্রস্তুতি সভা ডুবে যাওয়া লাইটার মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষ! পটুয়াখালীর ২০ শিশু সাংবাদিক পেলো সনদপত্র জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকুলীয় অঞ্চলের দরিদ্র মানুষের নিরাপদ খাবার পানি ও স্যানিটেশনের দূরবস্থা পটুয়াখালীর নতুন ডিসি জয়পুরহাটের ডিসি শরীফুল ইসলাম ভোলার দৌলতখানে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে যুবক নিখোঁজ; দুই কনস্টেবল বরখাস্ত ভোলায় ঢাকঢোল বাজিয়ে ব্রাজিল সমর্থকদের শোভাযাত্রা বিদেশী জাহাজের চোরাই মাল উদ্ধার করলো কোষ্টগার্ড

জন্মনিবন্ধন সনদের জন্য বেশি টাকা আদায় করছেন সচিব

পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি :
  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ৭ অক্টোবর, ২০২২
  • ২৯ বার পঠিত

পটুয়াখালী:

প্রায় দেড় বছর আগে নিজে ও স্বামী এবং ৩ মেয়ে ও ১ ছেলের জন্ম নিবন্ধন করতে পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদে আসেন চরবয়রা এলাকার শিল্পী বেগম। ইউনিয়ন পরিষদের নিয়ম অনুযায়ী আবেদন জমা দিয়ে এসে মাসের পর মাস ঘুরেও পায়নি কাংখিত সেবা।

কয়েকদিন পরে হদিচ মেলেনি তার আবেদনের। আবারও টাকা দিয়ে আবেদন জমা দিলে, ছেলে ও মেয়ের নামে ব্যাপক ভুল ও গরমিল দেখা দেয়, পুনরায় আবারও টাকা দিয়ে আবেদন জমা দিলে আবারও ভুল করে ইউপি সচিব। পরে বাধ্য হয়ে ইউএনও’র কাছে অভিযোগ দেয় শিল্পী, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানী করে ইউপি সচিবকে শোকজ করে ইউএনও। এরপর টাকা দিয়ে নতুন আবেদন দিয়ে সন্তান ও নিজের টা হাতে পেলেও এখনও পায়নি সন্তানের বাবার টা। এযেন দুর্র্ধষা শেষ হয়েও হচ্ছে না।

দীর্ঘদিন থেকেই জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নিয়ে পটুয়াখালীর অধিকাংশ ইউপি সচিব ও উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। সরকার নির্ধারিত ফি‘র থেকে ৪/৫ গুণ আদায় করা হচ্ছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে আবেদন গ্রহণ করলেও অনিচ্ছাকৃত ভুল ও সময়ক্ষেপণে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। কারণে অকারণে মাসের পর মাস হয়রানী করা হচ্ছে সেবা প্রত্যাশিদের।

মুরাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের সামনেই শতশত মানুষ ছুটে আসেন নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশে। সচিবের আচরণ ও হয়রানীতে অনেকেই সন্তানের জন্ম নিবন্ধনের আবেদন জমা দিয়েও আবার নিয়ে গেছেন। এই ইউনিয়নে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন এখন আতংক হয়ে দাড়িছে। অনেকে অপেক্ষায় আছে সচিবে বদলীর।

অভিযোগকারী শিল্পি বেগম বলেন, আমি দীর্ঘ ১৮ মাস ঘুরেও পরিবারের সবার নিবন্ধন পাইনি। ৬জনের নিবন্ধনের কাগজ হাতে পাইনি। একের পর এক ঠুনকো কারণে আমাকে হয়ারনী করেছে। তিনি আরও বলেন, ইউএন’র কাছে অভিযোগ দেয়ার কারণে আমাকে সচিব ও মেম্বার জান্নাত গালাগাল ও অপমান করেছে।

এছাড়াও স্থানীয় বাসিন্দা দুলাল গাজি বলেন, সচিব প্রতিটা জন্ম নিবন্ধনে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেন। দুই নং ওয়ার্ডে সালমা সুলতানা বলেন, সচিব আপায় রবিবার ছাড়া আসেনা, এছাড়া তাকে পাওয়াও যায় না। স্থানীয় আরেক বাসিন্দা জাহাঙ্গীর বলেন, আমার কাছে ৪০০ টাকা চাইছে, আমি কাগজপত্র নিয়ে গেছি, ওনি গেলে তারপর করবো।

তবে অভিযোগের বিষয়ে মুরাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোসাঃ কনার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি কোন কথা বলবেননা বলে জানান।

মুরাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমান শিকদার বলেন, বর্তমান ইউপি সচিব কনার অনিয়ম, দুর্নীতি ও হয়রানিতে অতিষ্ঠ মুরাদিয়া ইউনিয়নের জনগণ থেকে চেয়ারম্যান পর্যন্ত। সচিবের কুকর্মে অতিষ্ট হয়ে সংয়ং ইউপি চেয়ারম্যান নিজেই অভিযোগ করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে। তাতেও দুভাগ্য কাটেনি তাদের। এখন বহাল তবিয়তে নিজের অনিয়ম ও দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন ইউপি সচিব কনা।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আল ইমরান বলেন, অনেক ভুক্তভোগী আমার কাছে মৌখিক ও লিখিত অভিযোজ দিয়েছেন। তাকে বার বার সতর্ক করা হলেও তার সংশোধন হয়নি। আমি বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে জানিয়েছি।

এদিকে জেলার অনেক পৌরসভা ও ইউনিয়নে তথা কথিত সার্ভার জটিলতাসহ নানান অভিযোগে সাধারণ মানুষের থেকে অতিরিক্ত ফি আদায় এবং মাসের পর মাস হয়রানীর শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এবিষয়ে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মোঃ হুমায়ন কবিরের সাথে যোগাযোগে চেষ্টা করে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সকল বিড়ম্বনা ও হয়রানী নির্মুল করে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সেবা গ্রহণের পদ্ধতি আরও সহজ করে জনসাধারণের দুর্ধশা থেকে রেহাই দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবী জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা