1. admin@upokulbarta.news : admin :
শনিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৩, ০১:৩৮ অপরাহ্ন

সোনারগাঁ ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার নুরে আলম এক মুর্তমান আতংক, প্রায় ৪ বছর একই কর্মস্থলে

জেলা প্রতিনিধি,নারায়নগঞ্জ
  • আপডেট সময় : শনিবার, ২০ আগস্ট, ২০২২
  • ১৩০ বার পঠিত
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
এক সার্ভেয়ারের যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ মিস কেস ভূক্তভোগীরা। নিজের স্বপ্নের ধন ভিটে-মাটির জাল দলিল, অবৈধ দখলসহ বিভিন্ন কারনে ভূক্তভোগীরা বাধ্য হন মিস কেস করতে। এতে নিজের ভিটে-মাটির সুরক্ষার জন্য তারা ন্যায় বিচারের আশায় ভূমি অফিসের শরনাপন্ন হন। কিন্তু একজন সার্ভেয়ার যখন মূর্তমান আতংক হয়ে দেখা দেন, তখন সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয়ে  যায়।
সোনারগাঁ ভূমি অফিসে এমনই একজন মূর্তমান আতংকের নাম সার্ভেয়ার নূরে আলম। তিন বছরেরও বেশী সময় ধরে কর্মরত আছেন সোনারগাঁ ভূমি অফিসে। এ সময় অসংখ্য অভিযোগ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে। মিস কেসে ভূমির সরেজমিন প্রতিবেদন দিতে নয়-ছয়ের অভিযোগ রয়েছে। ভূক্তভোগীরা প্রভাবশালী না হলে, মোটা অংকের আর্থিক লেনদেন না করলে বেহাত হয়ে যায় স্বপ্নের ভিটে-মাটি।
প্রায় ৫ বছর আগে নিজের সম্পত্তির জাল দলিল ও বেহাত ঠেকাতে মিস কেস করেছিলেন পিরোজপুর ইউনিয়নের ভবনাথপুর গ্রামের মোঃ আতাউর রহমান। এরপর মাসে ২ বার কখনো ৩ মাসে ১বার হাজিরা দিয়ে আর ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের তদবির করে প্রায় আড়াই বছর পর একদিন সকালে জানতে পারেন তার মামলাটি খারিজ হয়ে গেছে। মাথায় বাজ পরার মতো অবস্থা তার। নেপথ্যে সেই সার্ভেয়ার নুরে আলম। এ কষ্টে মোঃ আতাউর রহমান এক সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি অভিযোগ করেন, তার প্রতিপক্ষ সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মামলাটি বাতিল করিয়েছেন। তিনি বলেন, জায়গাটি পুরোপুরি আমার দখলে কিন্তু সরেজমিন তদন্ত করতে গিয়ে কথিত সেই সার্ভেয়ার নুরে আলম জমিটি আমার প্রতিপক্ষের দখলে বলে রিপোর্ট দিয়েছে। আমার অগোচরে মামলার তারিখ ফেলে আমাকে গড় হাজির দেখিয়েছে এবং মামলাটি খারিজ করার সব আয়োজন করেছে। তার সাথে ভূমি অফিসের অনেক কর্মকর্তাও জড়িত।
তিনি মামলাটি আবার পূনঃতদন্তের আবেদন করলে সেটি গৃহীত হয়, তবে দীর্ঘ সময় ফেলে রাখা হয়। জমি সংক্রান্ত জটিলতা আর ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার ও কর্মকর্তাদের অসহযোগীতায় তিনি দিন দিন অসুস্থ হয়ে পড়েন। অবশেষে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে মোঃ আতাউর রহমান মৃত্যু বরণ করেন।
বেপরোয়া সার্ভেয়ারদের ঘুষ বানিজ্যে এরকম অসংখ্য মোঃ আতাউর রহমানদের জীবন কেড়ে নিচ্ছে। হত দরিদ্র মানুষের ভিটেমাটি হাতছাড়া হচ্ছে। এসব অনিয়ম, দূর্নীতির বিষয়ে খুব কম মানুষই প্রতিবাদ করেন।
স্থানীয় পর্যায়ে ইউনিয়নের সচিব, সার্ভেয়ার, তহশিলদার ও কৃষি কর্মকর্তারা বেশি দুর্নীতিতে জড়িত এমন অভিযোগ করে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন-ইউনিয়ন পরিষদ, কৃষি কর্মকর্তা, তহশিলদার ও ইউপি সচিবদের সব ধরনের দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনায় নজরদারি বাড়াতে হবে।
এম এ মান্নান আরও বলেন, সার্ভেয়ার, তহশিলদার ও ইউপি সদস্যরা অনেক বেশি ক্ষমতাবান। এ কারণে প্রান্তিক মানুষেরা তাদের কাছ থেকে ন্যায্য সেবা পায় না। প্রান্তিক মানুষদের নিয়ে কাজ করে তারা। অথচ দেখবেন এই তহশিলদার ও ইউপি সদস্যরা ভালো পরিবেশে থাকে, সকালে ভালো যানবাহনে চড়ে অফিসে আসে। তাদের দুর্নীতি বন্ধে জাতীয় পর্যায় থেকে নজর দেয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
সোনারগাঁ ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার নুরে আলমের বিরুদ্ধে এমন অসংখ্য অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তার কোন শাস্তি হচ্ছে না। একজন সার্ভেয়ার দুই বছর কর্মস্থলে থাকার নিয়ম থাকলেও অভিযুক্ত নুরে আলম প্রায় ৪বছর ধরে বহাল তবিয়তেই আছেন। মিসকেসকে পুঁজি করে প্রচুর অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। গড়ে তুলেছেন অবৈধ সম্পদ। এসব সম্পদের খোঁজ নিতে আর ভুমি অফিসকে দূর্নীতি মুক্ত করতে তার বিরুদ্ধে কয়েকজন ভূক্তভোগী জেলা প্রশাসক ও দূর্নীতি দমন কমিশন বরাবর অভিযোগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
সোনারগাঁ উপজেলা সহকারি ভূমি কমিশনার মোঃ ইব্রাহিম বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি। আমি সার্ভেয়ার নুরে আলমের অনিয়ম ও প্রভাব খাটিয়ে একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন থাকার বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রহিমা আক্তার এর কাছে জানতে চাওয়া হলে সোনারগাঁ এসিল্যান্ড অফিসের সার্ভেয়ার নূরে আলমের বিরুদ্ধে দূর্নীতি ও একই কর্মস্থলে দীঘদিন থাকার বিষয়ে কোন অভিযোগ পেয়েছেন কিনা? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এ বিষয়টি আমার জানা নেই। আপনি এডিসি রেভিনিউ এর সাথে কথা বলেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রেভিনিউ) এইচ এম সালাহউদ্দিন মন্জুর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা