1. admin@upokulbarta.news : admin :
শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৮:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ডর্‌প ও ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ওয়াশ এবং জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত সেমিনার অনুষ্ঠিত বন্দরে প্যালিয়েটিভ কেয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে নেটওয়ার্কিং সভা অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করায় এক শিক্ষকসহ ১৭ পরীক্ষার্থী বহিষ্কার ব্যাংকে জমি বন্ধক রেখে ঋন, বন্ধকী জমি বিক্রয়ে গ্রাহক ও ম্যানেজারের প্রতারনা চরফ্যাশন উপজেলা যুব রেড ক্রিসেন্ট কমিটি গঠন যৌন হয়রানি করে প্রধান শিক্ষক জেলে বরখাস্ত করেনি সভাপতি নেতা মুজিব -আঃ সামাদ ভোলায় নারী নেটওয়ার্কিং কমিটির সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত ফকিরহাটে মিনি ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ফকিরহাটে কৃষি ব্যাংকে গ্রাহক সেবা উন্নয়নে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

‘অগ্রদূত সংস্থা-এএস’ পর্যবেক্ষক সংস্থার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মূল্যায়ণ ও প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী প্রতিবেদন

মোঃ জাকির হোসেন চৌধুরী
  • আপডেট সময় : বুধবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৪
  • ১৭৩ বার পঠিত

পর্যবেক্ষক সংস্থার ভূমিকা:

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অগ্রদূত সংস্থা-এএস বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নিবন্ধিত পর্যবেক্ষক সংস্থা। নিবন্ধন কমিশন কর্তৃক নিবন্ধন নম্বর- ০৩ (প্রথম ধাপ)। সংস্থাটি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের ৮টি বিভাগের ২৩টি জেলার ৩৯টি সংসদীয় আসনে স্থানীয়ভাবে ৩৮৬জন এবং কেন্দ্রীয়ভাবে ৫জন প্রশিক্ষিত নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক কর্তৃক নির্বাচনকালীন সময়ের পর্যবেক্ষণকৃত তথ্যাবলীর উপর বিচার বিশ্লেষণ করে মূল্যায়ণ ও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন।

অগ্রদূত সংস্থা-এএস  পর্যবেক্ষক সংস্থার পর্যবেক্ষকগণ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্ববর্তী সময়ের ও নির্বাচনের দিনের এবং নির্বাচন পরবর্তী সপ্তাহের প্রত্যক্ষ ঘটনাবলী নিরপেক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। যার প্রাপ্ততথ্য অনুযায়ী নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সংস্থাটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণের মূল্যায়ণ ও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। প্রতিবেদনে স্থানীয় এবং কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকগণের বিবৃতি ও মতামত বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন তাদের ওয়েবসাইটে নির্বাচনের বিস্তারিত ফলাফল প্রকাশ করেছেন। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত ফলাফল প্রকাশের পর অগ্রদূত সংস্থা-এএস পর্যবেক্ষক সংস্থার নিয়োগকৃত পর্যবেক্ষক এবং সুশিল সমাজের ব্যক্তিবর্গের নিকট থেকে সংগ্রহকৃত বিবৃতির মাধ্যমে নির্বাচন বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।

তারই আলোকে অগ্রদূত সংস্থা-এএস পর্যবেক্ষক সংস্থা বাংলাদেশের ৮টি বিভাগের ২৩টি জেলার ৩৯টি সংসদীয় আসনের এককভাবে সর্ববৃহৎ নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা এবং নিরপেক্ষভাবে পর্যবেক্ষক নিয়োগকারী সংস্থা হিসেবে নির্বাচন সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া এবং মূল্যায়ণ দেশের জনগণের সামনে উপস্থাপনে নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব হিসেবে প্রকাশ করেছেন।

নির্বাচনের প্রেক্ষাপট:

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৪ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় নির্বাচন কালীন সরকার প্রধান ও নির্বাচন কমিশনকে আমাদের অগ্রদূত সংস্থা-এএস এর পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমাদের পর্যবেক্ষক সংস্থা মনে করেন স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের অন্যতম লক্ষ্য হলো সমাজে সুশাসন নিশ্চিত করা এবং শুদ্ধাচার কৌশল নিরুপণ করা।

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সরকার গঠনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য এবং সকল দল ও ভোটারের অংশগ্রহণে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্বাচনের আয়োজন করা। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের রায় প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে সাংবিধানিক ভাবে দেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ প্রতিটি নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের উপর ন্যাস্ত থাকে।

নির্বাচন কমিশনের সকল কাজে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সরকারের বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, ক্ষমতাশীন দল/জোট, সকল বিরোধী দল/জোট, প্রার্থী, সুশিল সমাজ, পর্যবেক্ষকবৃন্দ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এবং ভোটারদের গুরুত্ব অপরিসীম।

নির্বাচনের যৌতিকতা:

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নিবন্ধিত পর্যবেক্ষক সংস্থা হিসেবে অগ্রদূত সংস্থা-এএস পর্যবেক্ষক সংস্থার সাংগঠনিক দায়িত্ব হলো নির্বাচন পূর্ববর্তী, নির্বাচনের দিন এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়ে নিরপেক্ষভাবে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বাস্তবিক তথ্যসমূহ সংগ্রহ করার মধ্য দিয়ে নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নির্বাচন কমিশনের নিকট তুলে ধরা এবং দেশের সকল জনসাধারনের সম্মূর্খে তাহা প্রকাশ করা।

পর্যবেক্ষক সংস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা:

নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা হিসেবে অগ্রদূত সংস্থা-এএস কর্তৃক নিয়োগকৃত পর্যবেক্ষকদের প্রধান লক্ষ্য ছিলো, নির্বাচনের প্রতি ভোটারের বিশ্বাস বাড়ানো এবং নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রচার করা। অগ্রদূত সংস্থা-এএস  দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদেরকে ভোট কেন্দ্রে যাবার আহবান জানিয়ে এবং নির্বাচন কমিশনের প্রতিশ্রুতির প্রতি বিশ্বাস রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশের ৮টি বিভাগে ৮টি নির্বাচনি এলাকায় জনসচেতনতামূলক সভা করেছেন। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে পর্যবেক্ষদেরকে জেলা ভিত্তিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা হয়েছে।

অগ্রদূত সংস্থা-এএস  এর প্রধান কার্যালয়ের সভাকক্ষে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক জনাব মো: জাকির হোসেন চৌধূরী, নির্বাচন পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশের সকল জনসাধারনের দায়ীত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। এছাড়া পর্যবেক্ষক সংস্থা হিসেবে কোনো দলের প্রতি পক্ষপাতমূলক মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার জন্য সকলকে আহবান করেন। যাতে করে পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতি সকল রাজনৈতিক দল, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থী এবং নাগরিকের বিশ্বাসযোগ্যতা থাকে। সেই আলোকে অগ্রদূত সংস্থা-এএস পর্যবেক্ষক সংস্থার স্থানীয় এবং কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকগণ তাদের দায়িত্ব কতটুকু পালন করতে পেরেছেন তাহা জনসাধারণের মূল্যায়নের উপর নির্ভর করে থাকে।

পর্যবেক্ষকদের দায়িত্ব:

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা অগ্রদূত সংস্থা-এএস  পর্যবেক্ষক সংস্থার নিকট নির্বাচন শেষে নির্বাচনটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক হলো কি-না তার উপর একটি প্রতিবেদন জমা দিয়ে থাকেন। জেলা পর্যায়ের পর্যবেক্ষকদের প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে অগ্রদূত সংস্থা-এএস  পর্যবেক্ষক সংস্থা কর্তৃক একটি নির্বাচন গুণগতভাবে কতটা বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে, তাহা উঠে আসে পর্যবেক্ষকদের মাধ্যমে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিবেদনে। ভবিষ্যতে কিভাবে নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে আয়োজন করা যায়, পর্যবেক্ষকদের তথ্যের উপর ভিত্তি করে পর্যবেক্ষক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ঐই বিষয়টি ঠিক করে থাকেন নির্বাচন কমিশন।

আমাদের বিশ্বাস, নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা নির্বাচন চলাকালীন সময়ে পুরো পরিস্থিতি শুধু দেখে যান এবং পরে ঐই বিষয়ে তাদের প্রতিবেদন অগ্রদূত সংস্থা-এএস পর্যবেক্ষক সংস্থার নিকট প্রকাশ করে থাকেন। রবিবার ৭ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাদের অগ্রদূত সংস্থা-এএস এর স্থানীয় ৩৮৬জন এবং কেন্দ্রীয় ৫জন পর্যবেক্ষক তাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত ৮টি বিভাগের ২৩টি জেলার ৩৯টি সংসদীয় এলাকার নির্বাচনের সার্বিক চিত্র তুলে আনতে সক্ষম হয়েছেন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মৌলিক তথ্যসমূহ:

নির্বাচন কমিশনের হিসাবে দেখা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে খুলনা বিভাগে এবং কম ভোট পড়েছে সিলেট বিভাগে। ঢাকা বিভাগের আসনগুলোতে ভোট পড়েছে ২৬ শতাংশ, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩০ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮ শতাংশ, রাজশাহী বিভাগে ২৭ শতাংশ, খুলনা বিভাগে ৩২ শতাংশ, রংপুর বিভাগে ২৭ শতাংশ, সিলেট বিভাগে ২৩ শতাংশেএবং বরিশাল বিভাগে ৩১ শতাংশ ভোট পড়েছে।

 বিগত ১১টি সংসদ নির্বাচনে ভোটের হার: প্রথম সংসদ নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৫৫ শতাংশ; দ্বিতীয় সংসদে ৫১.১২ শতাংশ; তৃতীয় সংসদ ৫৯.৫৮ শতাংশ; চতুর্থ সংসদ ৫৪.৯২ শতাংশ; পঞ্চম সংসদ ৫৫.৪৫ শতাংশ; ষষ্ঠ সংসদ ২৬.৫ শতাংশ; সপ্তম সংসদ ৭৪.৯৬ শতাংশ; অষ্টম সংসদ ৭৫.৫৯ শতাংশ; নবম সংসদ ৮৭.১৩ শতাংশ; দশম সংসদে (১৫৩ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা); (ভোট ১৪৭ আসনে) ৪০.০৪ শতাংশ; একাদশ সংসদে ৮০.২০ শতাংশ ভোট পড়েছিল। এবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট পড়েছে নির্বাচন কমিশনের সূত্রমতে ৪১.০৮ শতাংশ।

 পর্যবেক্ষকদের বক্তব্য অনুসারে নির্বাচনের অভিযোগসমূহ:

 রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন বাণিজ্য:

এবারের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কয়েকটি দলের বিরুদ্ধে তাদের কিছু কিছু প্রার্থীদের মৌখিক বক্তব্য অনুযায়ী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে জানাযায় মনোনয়ন বাণিজ্যে আর্থিক লেনদেনের মতো ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এর কোনো বাস্তবিক প্রমাণ কারো কাছেই নেই। তবে এটা সত্যি যে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের সম্পর্কে সাধারণ জনগণ কিছুটা বিরুপ প্রতিক্রিয়া ধারণ করে থাকে। দেশের সাধারণ জনগণ মনে করে নির্বাচনকালীণ সময়ে প্রার্থীরা এধরণের অনিয়মের মতো ঘটনা ঘটিয়ে থাকে। সর্বপরি অগ্রদূত সংস্থা-এএস এনজিও’র কর্তৃপক্ষ মনে করেন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সূত্রধরে এধরণের অভিযোগ গুলোর বিষয়ে দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন এবং রাজনৈতিক দল গুলোকে সজাগ থাকতে হবে।

নির্বাচনি প্রচার প্রচারণায় বাধাসৃষ্টি:

বাংলাদেশ একটি বহুজাতিক গণতান্ত্রিক দেশ, এখানে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বিদ্যমান রয়েছে। তার পরেও দেশে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে কিছু কিছু রাজনৈতিক দল বা জোটের নির্বাচনী প্রচারণায় বিভিন্ন রকমের বাধা প্রদানের অভিযোগ একে অপরের উপর দিতে দেখা যায়। অগ্রদূত সংস্থা-এএস  পর্যবেক্ষক সংস্থা বিগত নির্বাচন গুলোর মতো এবারের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে নিয়মিতভাবে দেশের রাজনৈতিক দল/জোটের নির্বাচন পূর্বর্তী প্রচার প্রচারণার নিয়ে পর্যালোচনা করেছেন। তাতে দেখা যায় বেশ কিছু এলাকায় দলীয় প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এবং তাদের সমর্থকদের মধ্যে নির্বাচনী সভা ও পথ সভায় সরাসরি সংঘর্ষ হলেও নির্বাচনের প্রচারণায় বড়ধরনের তেমন কোনো বাধার সৃষ্টি হয়নী। বিশেষ করে এবারের নির্বাচনের পূর্বে যেভাবে একটি বিরোধী পক্ষ নির্বাচনকে প্রতিহত করার ডাক দিয়েছিলো, নির্বাচনকালীন সময়ে সেই হিসেবে কিছুই ঘটেনি। তবে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দল গুলোর সমর্থকদের মধ্যেও ছিলো এক ধরনের নিস্ক্রিয়তা। এর কারন হিসেবে জানা যায় নির্বাচনে বেশিরভাগ সংসদীয় এলাকায় সাধারণ মানুষ নির্বাচনের বিষয়ে অপেক্ষাকৃত উৎসাহ কম ছিলো।

ভোটের বাক্স ভরে রাখা এবং জাল ভোট প্রদান:

অগ্রদূত সংস্থা-এএস পর্যবেক্ষক সংস্থার পর্যবেক্ষকগণ এবারের দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে ভোট গ্রহণের পূর্ববর্তী সময়ে দেশের ৮টি বিভাগের ২৩টি জেলার ৩৯টি সংসদীয় এলাকায় নির্বাচন পরিস্থিতি খুবই গুরুত্বসহকারে ৩৯১জন পর্যবেক্ষক নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। বিগত নির্বাচনের মতো এবারের নির্বাচনে ভোটের আগের দিন এবং ভোটের দিন পর্যবেক্ষকদের প্রাপ্ত তথ্যঅনুসারে ভোটের বাক্স ভরে রাখা এবং জাল ভোট প্রদানের কোনো ঘটনা পাওয়া যায়নী। সত্যিকার অর্থে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনটি নির্বাচন কমিশনের সার্বিক মনিটরিং এর কারনে কোথায়ও কোনো ধরনের অপ্রিতীকর ঘটনার ঘটনা ঘটেনী।

কেন্দ্রের পোলিং এজেন্টদের ভয়ভীতি প্রদর্শন:

অগ্রদূত সংস্থা-এএস পর্যবেক্ষক সংস্থার কেন্দ্রীয়ভাবে ৫জন এবং স্থানীয়ভাবে ৩৮৬জন প্রশিক্ষিত পর্যবেক্ষক দেশের ৮টি বিভাগের ২৩টি জেলার ৩৯টি সংসদীয় এলাকায় নির্বাচনকালীন সময়ে নিরপেক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। পর্যবেক্ষকদের প্রতিবেদনে দেখা যায় বরিশাল এবং ঢাকা বিভাগের বেশিরভাগ ভোট কেন্দ্রের ভিতরে প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টদেরকে ভোট কেন্দ্রের ভিতরে উপস্থিতি দেখা যায়নী। তবে পোলিং এজেন্টদেরকে মারধরের বা ভয়ভীতির মতো কোনো ধরনের অভিযোগ অগ্রদূত সংস্থা-এএস  পর্যবেক্ষক সংস্থার পর্যবেক্ষকদের নিকট বলতে দেখা যায়নী। এক্ষেত্রে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের কয়েকটি কেন্দ্রের ভিতরে পোলিং এজেন্টদেরকে ভিতরে প্রবেশ করতে দেয়নী বলে অভিযোগ পাওয়া গেলে, কেন্দ্রে গুলোর দায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং অফিসারদেরর নিকট থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছেন বলে পর্যবেক্ষকদেরকে অবগত করেন।

কেন্দ্রের ভিতরে প্রকাশ্যে সীল মারা:

অগ্রদূত সংস্থা-এএস পর্যবেক্ষক সংস্থা কর্তৃক সারা দেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণকালে কোথাও কোনো কেন্দ্রের ভিতরে প্রকাশ্যে সীল মারার মতো ঘটনা পর্যবেক্ষকদের সামনে ঘটেনী বলে পর্যবেক্ষকদের প্রতিবেদনে পাওয়া যায়। তবে বরিশাল, ঢাকা এবং খুলনা বিভাগের বেশ কিছু ভোট কেন্দ্রের বাহিরে ভোটারদের উপস্থিতি সকালের দিকে খুবই কম ছিলো। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটারদের উপস্থিতি কিছুটা চোখে পড়ার মতো। নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিলো সন্তোসজনক। বেশ কিছু ভোট কেন্দ্রের বাহিরে ভোটারদের দ্বীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারির কারনে কোথায়ও ভোট প্রদানের সময়ে ভোটারদেরকে প্রভাবিত করার ঘটনা ঘটেনী।

 ভোটের ব্যবধান নিয়ে প্রার্থীদের অভিযোগ/সন্দেহ:

অগ্রদূত সংস্থা-এএস  এনজিও’র পর্যবেক্ষকদের কাছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা ফিরোজুর রহমান স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন বলে জানান। তিনি আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছেন। তিনি নির্বাচন কমিশনের ভোটের হার নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন পর্যবেক্ষকদের কাছে। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর আসনে বেলা তিনটা পর্যন্ত ১৫% ভোট পড়ার তথ্য পেয়েছিলেন। কিন্তু বিকেল চারটায় যখন ভোট শেষ হয়, তখন তিনি জানতে পারেন, তাঁর আসনে প্রায় ৩৫% ভোট পড়েছে। এই ভোটের হার নিয়ে তাঁর সন্দেহের কথা পর্যবেক্ষকদের জানা। এছাড়ারও রংপুরের একটি আসনের তিনবারের সংসদ সদস্য এবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থীর নিকট হেরে যাওয়ার পিছনে সন্দেহ করেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাথে সমঝোতার মাধ্যমে যে ২৬টি আসন জাতীয় পার্টি পেয়েছিল, এর মধ্যে ময়মনসিংহ-৮ আসনের জাপার প্রার্থী ছিলেন ফখরুল ইমাম। তিনি আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। তিনি পর্যবেক্ষকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, তাঁর আসনে শেষ এক ঘণ্টায় ভোটের হার অনেক ব্যবধানে বাড়িয়ে ২৭% দেখানো হয়েছে। ভোট কেন্দ্র গুলোতে ভোটার উপস্থিতি ছিল নগণ্য। সারা দিনে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারের অভাব বা ভোটারশূন্য অবস্থার চিত্রের সঙ্গে ভোটের হারকে মেলাতে পারছেন না ফখরুল ইমাম। তবে পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে সেই ভোট কেন্দ্র গুলোর ভোটারের উপস্থিতি ছিলো সন্তোসজনক।

নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা:

অগ্রদূত সংস্থা-এএস পর্যবেক্ষক সংস্থার পর্যবেক্ষণে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা ক্ষমতাসীদের পক্ষে কাজ করার বা নির্বাচনে প্রভাব খাটানোর মতো কোনো ধরনের অভিযোগ দেখা যায়নী। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচন গুলোর চাইতে এবারের নির্বাচনের পূর্ববর্তী দিন, নির্বাচনের দিন এবং নির্বাচন পরবর্তী দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিলো সবচেয়ে ভালো। যদিও কিছু কিছু সংসদীয় এলাকায় সহিংসতার ঘটনা বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারিত হলেও তাহা বিশ্লেষণ করলে খুবই নগণ্য হবে বলে আমাদের পর্যবেক্ষক সংস্থা মনে করেন। অগ্রদূত সংস্থা-এএস পর্যবেক্ষক সংস্থার পর্যবেক্ষকগণের পাঠানো দেশের ৮টি বিভাগের ২৩টি জেলার ৩৯টি সংসদীয় এলাকার প্রতিবেদনের তথ্যমতে নির্বাচনের সময়ে একটি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করার সংবাদ পাওয়া যায় এবং অনাকাঙ্খিত ভাবে নির্বাচনের পূর্বের সহিংসতায় ৫জন ও নির্বাচনের দিনে সহিংসতায় ১জনের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া যায়।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা:

 দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৪ সফলভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের আন্তরিকতার কোনো ধরনের ঘাটতি ছিলো না। তদোপুরি কিছু কিছু ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে আরো সক্রিয় থাকার প্রয়োজন ছিলো বলে অগ্রদূত সংস্থা-এএস পর্যবেক্ষক সংস্থার কর্তৃপক্ষ মনে করেন। অগ্রদূত সংস্থা-এএস  পর্যবেক্ষক সংস্থার দৃষ্টিতে নির্বাচন কমিশন যে সকল ক্ষেত্রে বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন তাঁর কিছু চিত্র নিচে বর্ণনা করা হলো-

 

১. নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধিত সকল রাজনৈতিক দল গুলোর সাথে খোলামেলা আলোচনা করা।

২. নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার বিষয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা অব্যাহত রাখা।

৩. নির্বাচনী প্রচারণায় নিবন্ধিত সকল রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদেরকে সমান সুযোগ করে দেওয়া।

৪. নির্বাচনে অংশগ্রগণকারী প্রার্থীদের অভিযোগ গুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

৫. নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলাসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

৬. নির্বাচনে প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্গনের ক্ষেত্রে যথাযত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

৭. নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা পর্যন্ত সার্বক্ষণিক মনিটরিং অব্যাহত রাখা।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন:

ভোট কেন্দ্রের উপযুক্ততা:

আমাদের অগ্রদূত সংস্থা-এএস এনজিও’র পর্যবেক্ষকগণ বাংলাদেশে ৭ জানুয়ারি ২০২৪ এ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৮টি বিভাগের ২৩টি জেলার ৩৯টি সংসদীয় এলাকার ৩৫৯৪টি ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন কালে সংস্থার ৩৯১জন পর্যবেক্ষক তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন যে, বিগত নির্বাচনের তুলনায় চলতি নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র গুলোতে ভোটারদের জন্য উপযুক্ততা ছিলো। তবে উল্লেখিত কেন্দ্র গুলোর ভিতরে ৩৪টি ভোট কেন্দ্রের ভিতরে পর্যাপ্ত আলোর অভাব ছিলো। এছাড়া বরিশাল ও ঢাকা বিভাগের ৬টি ভোট কেন্দ্রের ভিতরে প্রবেশ পথে প্রতিবন্ধীদের জন্য ভোট কেন্দ্র উপযুক্ত ছিলোনা।

আমাদের অগ্রদূত সংস্থা-এএস  এনজিও’র পর্যবেক্ষকগণ দেশের ৬টি বিভাগের ২১টি জেলার ৩১টি সংসদীয় এলাকার ২৪৩১টি ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার ও পেলিং এজেন্টদের সাথে কথা বলে জানতে পারেন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ভোট কেন্দ্রে আশা ভোটাররা নির্বিগ্নে ভোট প্রদান করতে পেরেছেন। এসব কেন্দ্র গুলোতে সকাল থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতি খুবই কম ছিলো তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে বিকেল নাগাদ ভোটারের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো। বিগত ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনের চাইতে এবারের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাদের পর্যবেক্ষকগণ মনে করেন ভোটারের উপস্থিতি ছিলো সন্তোসজনক। উপস্থিত ভোটারের মধ্যে বেশিরভাগ ভোটারের উপস্থিতি ছিলো নারী ভোটার।

ভোট কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা:

এবারের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা আমাদের অগ্রদূত সংস্থা-এএস এনজিও’র ৩৯১জন পর্যবেক্ষকের দৃষ্টিতে সন্তোসজনক মনে করেন। তবে বিগত জাতীয় নির্বাচন গুলোর চাইতে এবারের নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনায় দায়ীত্বে থাকা সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং প্রিজাইডিং অফিসারগণ তাদের উপর নির্বাচন কমিশনের অর্পিত দায়ীত্ব যথাযথভাবে পালন করেছন বলে অগ্রদূত সংস্থা-এএস এনজিও’র পর্যবেক্ষকগণ মনে করেন।

তবে বরিশাল, ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী এবং খুলনা বিভাগের ২০টি জেলার ৩৫টি সংসদীয় আসনের ১৫৮৭টি ভোট কেন্দ্রের ভিতরে নৌকা প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতি শতভাগ থাকলেও অন্যান্য দলের প্রার্থীদের কোনো পোলিং এজেন্টদেরকে ভোট কেন্দ্রের ভিতরে দেখা যায়নি। এই বিষয়ে আমাদের পর্যবেক্ষকগণ কেন্দ্রের দায়ীত্বে থাকা সহকারী রিটারিং অফিসার এবং প্রিজাইডিং অফিসারদের কাছে জানতে চাহিলে তারা কোনো ধরনের মন্তব্য করতে রাজি হয়নী। আমাদের পর্যবেক্ষকগণ বিষয়টি জানার জন্য উল্লেখিত সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের সাথে সাক্ষত করে জানতে পারেন যে, কিছু কিছু ভোট কেন্দ্রের পোলিং এজেন্টদেরকে নৌকা প্রতীকের সমর্থীত স্থানীয় নেতা-কর্মীদের ভয়ভীতির কারনে পোলিং এজেন্টরা কেন্দ্রের ভিতরে যেতে পারেনী।

তবে এব্যাপারে আমাদের অগ্রদূত সংস্থা-এএস এনজিও’র পর্যবেক্ষকগণ ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের ১১টি জেলার ২৪টি সংসদীয় এলাকার ভোটারদের সাথে কথা বলে জানতে পারেন যে, বিএনপিসহ তাদের সমমনা কয়েকটি দল নির্বাচনে না আসায় তাদের ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে এবার আসেনী। যার ফলে এবারের নির্বাচনটি তেমন উৎসবমুখর হয়নী বলে ভোটাররা তাদের অভিমত ব্যক্ত করেন। ভোট দিতে আশা ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায় নির্বাচন কমিশনের কারনে ভোটাররা ভোট দিতে এসে কোনো ধরণের বাধার সম্মূখীন হতে হয়নী।

ভোট কেন্দ্রের ও নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি:

৭ জানুয়ারি ২০২৪ এ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৮টি বিভাগের ২৩টি জেলার ৩৯টি সংসদীয় এলাকার ৩৫৯৪টি ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন কালে সংস্থার ৫জন কেন্দ্রীয় এবং ৩৮৬জন স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের প্রতিবেদনে দেখা যায় যে, নির্বাচন বর্জনকারী বিএনপিসহ তাদের সমমনা দল গুলোর নেতা-কর্মীরা এবারের দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের দিন সকল থেকে বিকেল পর্যন্ত ভোট কেন্দ্র এবং তার আশপাশে দেখা যায়নী। যেমনটি দেখা গিয়েছিলো ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময়।

এবারের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সেনা বাহিনী, নৌ বাহিনী, র‌্যাব ও জাতীয় গোয়েন্দা বাহিনীর তৎপরতা ছিলো চোখে পরার মতো। ঢাকা ও বরিশালসহ দেশের ১১টি জেলার দায়ীত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সেনা বাহিনী, নৌ বাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব, কোষ্টগার্ড এবং জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের সাথে আমাদের অগ্রদূত সংস্থা-এএস এনজিও’র পর্যবেক্ষদের কথা হয়, তারা জানান কিছু কিছু ভোট কেন্দ্রের বাহিরে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী কয়েকটি দলের প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটিসহ দাওয়া পাল্টা দাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে।

এছাড়া দেশের একটি এলাকায় নৌকা প্রার্থীর সমর্থককে কুপিয়ে মেরে ফেলেন স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা। অন্য দিকে রাজশাহী, ঢাকা ও বরিশাল বিভাগসহ দেশের ১৭টি জেলার ১৬৯৩টি ভোট কেন্দ্রের ভিতরে দায়ীত্বে থাকা পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সাথে আমাদের অগ্রদূত সংস্থা-এএস এনজিও’র পর্যবেক্ষগণ কথা বলে জানতে পারেন যে, কিছু কিছু ভোট কেন্দ্রের ভিতরে নৌকার প্রার্থীর সমর্থক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের দ্বারা ভোটারদেরকে নিজেদের প্রার্থীর মার্কায় ভোট প্রদানের জন্য উদ্ভূদ্ধ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ ও আনসার বাহিনীর তৎপরতার কারনে তাহা করতে পারেনী। সব মিলিয়ে আমাদের অগ্রদূত সংস্থা-এএস এনজিও’র পর্যবেক্ষগণ মনে করেন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র গুলোর ভিতর ও বাহিরের পরিবেশ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোসজনক ছিলো।

ভোট কেন্দ্রের ভোট গণনা:

৭ জানুয়ারি ২০২৪ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে ভোট গণনা কালীণ সময়ে আমাদের অগ্রদূত সংস্থা-এএস এনজিও’র পর্যবেক্ষদের মধ্যে স্থানীয়ভাবে ১৩৪জন পর্যবেক্ষক রাজশাহী, বরিশাল ও ঢাকা বিভাগের ১১টি জেলার ২৪টি সংসদীয় এলাকার ১৩৪টি ভোট কেন্দ্রের ভিতরে ভোট গণনা কালীণ সময়ে উপস্থিত ছিলেন। যদিও উল্লেখিত ভোট কেন্দ্র গুলোর ভিতরে নৌকার ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পোলিং এজেন্ট ছাড়া অন্যান্য প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতি দেখা যায়নী। তবে ভোট কেন্দ্র গুলোর দায়ীত্বে থাকা সহকারী রিটানিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনীর সদস্যবৃন্দসহ সাংবাদিকদের উপস্থিতি ছিলো। ভোট গণনাকালীণ সময়ে দায়ীত্বরত কর্মকর্তাগণ সকলের সম্মূখে ভোটের ইনটেক করা ব্যালেট বাক্স খুলে ভোট গণনা সম্পূর্ন করেন। ভোট গণনাকালীণ সময়ে উপস্থিত কাউকে ভোট গণনা নিয়ে প্রশ্ন বা অভিযোগ করতে দেখা যায়নী বলে জানিয়েছেন আমাদের অগ্রদূত সংস্থা-এএস এনজিও’র পর্যবেক্ষগণ।

সংশ্লিষ্ট জেলার রিটানিং কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফল শেষে এবং নির্বাচন কমিশনের চুড়ান্ত ফলাফলের মাধ্যমে আমাদের পর্যবেক্ষকদের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ৫০শতাংশ বা তার চেয়ে বেশি ভোট পড়েছে ৭১টি সংসদীয় আসনে। এর মধ্যে নৌকা প্রার্থীদের ৬৩টি, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ৭টি এবং জাতীয় পাটির প্রার্থীর ১টিতে ভোট পড়েছে বেশি। এছাড়া ৩৯টি আসনের প্রার্থীদের সঙ্গে তার নিকটতম প্রার্থীদের ভোটের ব্যবধান ৫০ শতাংশের বেশি। এসব আসন গুলোতে শক্ত কোনো প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী না থাকায় নৌকার প্রার্থীরা বিজয় পেয়েছেন।

আইনশৃঙ্খলা:

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৪ এবার বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া ৭ জানুয়ারি রোববার বাংলাদেশের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। অগ্রদূত সংস্থা-এএস  এনজিও’র পর্যবেক্ষকগণ ভোটকক্ষ পরিদর্শনের সময় নির্বাচনে নিয়োজিত থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটসহ নির্বাচনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত র‍্যাব, বিজিবি, সেনাবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ, আনসার, পোলিং এজেন্ট, প্রিসাইডিং অফিসার এবং তরুণ, পুরুষ ও নারী ভোটারদের সঙ্গেও কথা বলেছেন এবং নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছেন। অগ্রদূত সংস্থা-এএস এনজিও’র পর্যবেক্ষকগণ মনে করেন, কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচনে বিরত থাকায় এবং মাঠের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় নির্বাচনের উৎসবমুখর পরিবেশে কিছুটা প্রভাব ফেলেছে। বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দল গুলো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে নির্বাচনের পরিবেশ আরো সুন্দর ও আনন্দময় হতো বলে মনে করেন। অগ্রদূত সংস্থা-এএস এনজিও’র পর্যবেক্ষকগণ দেশের ৮টি বিভাগের ২৩টি জেলার ৩৯টি সংসদীয় এলাকার বেশ কিছু ভোটারের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছেন, কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে এসে কোনো ধরণের বাধার সম্মূখীন হয়নী। এবারের নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি না থাকায় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থী বা দলের দ্বারা ভোটারদের তেমন কোনো ভয়ভীতি দেখা যায়নী।

অগ্রদূত সংস্থা-এএস পর্যবেক্ষক সংস্থা মনে করেন এটা একটা গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের জন্য ভালো ইঙ্গিত বহন করছে। ৭ জানুয়ারি রোববার ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনটি বন্ধ করার জন্য বিগত নভেম্বর-ডিসেম্বর ২০২৩ এই দুই মাস একটি মহল বিভিন্ন কর্মকান্ড চালিয়ে ছিলেন। তার পরেও নির্বাচন কমিশনের শক্ত অবস্থানের কারনে এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার কারনে শেষ পর্যন্ত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর জন্য অগ্রদূত সংস্থা-এএস পর্যবেক্ষক সংস্থার পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি:

৭ জানুয়ারি রোববার ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বের দিন অর্থাৎ ৬ জানুয়ারি শনিবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন কয়েকটি সংসদীয় এলাকায় নৌকা ও স্বতন্ত্রর সমর্থকদের মধ্যে, নৌকা ও জাতীয় পার্টির সমর্থকদের মধ্যে এবং জাতীয় পাটি ও স্বতন্ত্রর সমর্থকদের মধ্যে বিক্ষিপ্ত কয়েকটি সংঘর্ষ এবং কয়েকটি ভোট কেন্দ্রের উপর হামলা হয়েছে। এছাড়া ৫ জানুয়ারি থেকে ৬ জানুয়ারি সন্ধা পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৮টি স্থানে অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটেছে।

অগ্রদূত সংস্থা-এএস  এনজিও’র পর্যবেক্ষণে দেখা যায় এবারের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের কয়েকটি স্থানে নৌকা ও স্বতন্ত্রর ৫জন সমর্থকের মৃত্যু হয়েছে এবং উভয় প্রার্থীদের অন্তত ৪১জনের আহত হবার সংবাদ পাওয়া গেছে। মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিমে ভোট কেন্দ্রের সামনে নৌকা প্রতীকের এক সমর্থককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঢাকার খিলক্ষেতের একটি কেন্দ্রের বাইরে দুটি হাতবোমা ফাটানো হয়েছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন গুরুতর তেমন হতাহতের ঘটনা অগ্রদূত সংস্থা-এএস  এনজিও’র পর্যবেক্ষণে দেখা যায় যায়নী। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ যে কোনো জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় সহিংসতার ঘটনা ঘটে থাকে। তবে এবার নির্দ্বিধায় বলতে পারি, বিগত যে কোনো জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চেয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হতাহতের ঘটনা তুলনামূলকভাবে খুবই কম ঘটেছে। এবারের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫ জানুয়ারি থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ৮টি যানবাহন ও ১১টি স্থাপনাসহ ভোট কেন্দ্র পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়াও মাদারীপুর, জামালপুর, ঝিনাইদাহে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় অর্ধশত বাড়িঘরে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। আমাদের পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশের ৮টি বিভাগের ২৩টি জেলার ৩৯টি সংসদীয় এলাকায় বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা দেখেছি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী, স্বতন্ত্র ও জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য দলের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এবং বিক্ষিপ্ত কয়েকটি সংঘর্ষ যা ছিলো অপ্রত্যাশিত। কিন্ত সামগ্রিকভাবে নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে উপরের বর্ণিত ঘটনাবলী খুবই নগণ্য।

অগ্রদূত সংস্থা-এএস  পর্যবেক্ষক সংস্থা হিসেবে আমরা মনে করি যে কোনো সাধারণ নির্বাচন একটি দেশের জন্য গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অংশ। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সুনির্দিষ্ট সময়ের ভেতর জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিরোধী দলসহ কয়েকটি সমমনা দলের দুরভিসন্ধি ছিল দেশে সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি করা। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। ৩০ লক্ষ শহিদের রক্ত ও দুই লক্ষ মা-বোনের ইজ্জ্বতের বিনিময়ে ৯ মাস সংগ্রামের ফলে দেশটি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এঁর নেত্রিত্বে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। বাঙ্গালীরা কখনো বিদেশীদের তাবেদারী পছন্দ করেনী এবং কখনো মেনে নেয়নী। বাংলাদেশের সংবিধানকে অবমাননা করে কোনো অশুভ শক্তি যাতে বেআইনিভাবে ক্ষমতা দখল না করতে পারে সেজন্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া অতীব জরুরি ছিলো। বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাই হবে সমগ্র দেশবাসীর নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে সরকার গঠন করে দেশ পরিচালনা করবে এটাই বাস্তবতা। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে বিরোধী দল এবং তাদের ভূমিকা যথাযথভাবে পালন করবে বলে অগ্রদূত সংস্থা-এএস  পর্যবেক্ষক সংস্থা মনে করেন। বাংলাদেশের জনসাধারনের প্রত্যাশা, নবনির্বাচিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষায় শতভাগ সক্রিয় ও আন্তরিক থাকবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে এবং দেশের সকল জনসাধারনকে স্বস্তি ও শান্তি রক্ষার নিশ্চিতে সংবিধানসম্মতভাবে যথোচিত ভূমিকা পালন করবে বলে আশাবাদী।

নির্বাচন কমিশনের নিকট %

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা