1. admin@upokulbarta.news : admin :
রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ০৩:১২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আদালত ঢোল পিটিয়ে জমি বুঝিয়ে দিলেও চলছে হামলা ও লুটপাট সাধারণ শিক্ষার্থী ও দলের কল্যাণে কাজ করতে চান ছাত্রনেতা বাচ্চু বিএনপির গণসমাবেশ উপলক্ষে মোহনপুরে লিফলেট বিতরণ ও প্রস্তুতি সভা ডুবে যাওয়া লাইটার মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষ! পটুয়াখালীর ২০ শিশু সাংবাদিক পেলো সনদপত্র জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকুলীয় অঞ্চলের দরিদ্র মানুষের নিরাপদ খাবার পানি ও স্যানিটেশনের দূরবস্থা পটুয়াখালীর নতুন ডিসি জয়পুরহাটের ডিসি শরীফুল ইসলাম ভোলার দৌলতখানে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে যুবক নিখোঁজ; দুই কনস্টেবল বরখাস্ত ভোলায় ঢাকঢোল বাজিয়ে ব্রাজিল সমর্থকদের শোভাযাত্রা বিদেশী জাহাজের চোরাই মাল উদ্ধার করলো কোষ্টগার্ড

মঠবাড়িয়ায় মাদ্রাসার সাবেক সুপারের দুর্নীতি ঢাকতে সভাপতি এবং ভারপ্রাপ্ত সুপারকে ফাঁসানোর চেষ্টা

যুগ্ন প্রকাশক
  • আপডেট সময় : সোমবার, ৮ নভেম্বর, ২০২১
  • ২৪৩ বার পঠিত

পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার ০৪ নং দাউদখালী ইউনিয়নের মধ্য দেবত্র এন,ইসলাম দাখিল মাদ্রাসার সাবেক সুপার জিয়াউল ফারুকীর বিরুদ্ধে  ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রভাব খাটানো এবং মাদ্রাসার সভাপতি এবং ভারপ্রাপ্ত সুপারের বিরুদ্ধে  ষড়যন্ত্র মূলক বিভিন্ন হয়রানির বিস্তর অভিযোগ পাওয়া গেছে।  অত্র এলাকার স্থানীয় মানুষের মতামত,মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির বর্তমান সভাপতি ইলিয়াস খান এবং ভারপ্রাপ্ত সুপারিটেন্ডেন্ট মোঃ এনামুল হকের দেয়া লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এমন হয়রানির বিস্তর তথ্যচিত্র ফুটে উঠেছে।

মাদ্রাসার বর্তমান সভাপতির দেয়া লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন,আমি ইলিয়াস খান, গত ০৯-০৬-২০০০ ইং তারিখ থেকে অত্র মাদ্রাসায় অতি সুনামের সহিত সভাপতির দ্বায়িত্ব পালন করে আসছি।গত ২৫-০৮-২০২১ ইং তারিখ মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক জরুরী সভায় মাদ্রাসার আয়- ব্যয় হিসাব সংক্রান্ত আলোচনায় মাদ্রাসার সাবেক সুপারিন্টেন্ডেন্ট মাওলানা মোঃ জিয়াউল হক ফারুকীর দুর্নীতির তথ্য বেড়িয়ে আসে। দুর্নীতির অভিযোগের বরাতে বর্তমান সভাপতি ইলিয়াস খান বলেন, সাবেক সুপার মাওঃ জিয়াউল হক ফারুকী  মাদ্রাসার দাতা সদস্য হন। দাতা সদস্য হতে হলে যে অর্থ মাদ্রাসার নামে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হয় তা না দিয়ে অবৈধ ভাবে দাতা সদস্যপদ লাভ করেন। এছাড়া ও ১৯৯৫ ইং সনের ১১ই মার্চ নিয়ম-নীতি ভঙ্গ করে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মাদ্রাসার হেড মৌলভী মোঃ সিদ্দিকুর রহমানকে তার পদ থেকে সরিয়ে সেই পদে মোঃ মাসুম বিল্লাহকে হেড মৌলভী পদে নিয়োগ প্রদান করেন যাহার কোন নিয়োগ বিধি বা রেজুলেশন হয়নি।

অর্থ সুবিধা নিয়ে অ-নৈতিক উপায়ে নিয়োগ দেওয়া এই মাসুম বিল্লাহকে চাকরি চলাকালীন মুহূর্তে রেগুলার (নিয়মিত) কামিল শ্রেনীতে ক্লাস করার সুযোগ দান করেন।পাশাপাশি নিয়মিত ক্লাস করানো অবস্থায় ও সে সরকারি টাকা (বেতন ভাতার সরকারি অংশ) অনুদান ভোগ করেছেন যা সম্পূর্ণ নিয়োগ বিধি বহির্ভূত কর্মকাণ্ড।  সাবেক সুপার মাওঃজিয়াউল হক ফারুকীর বিরুদ্ধে সুপারিন্টেন্ডেন্ট এর দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ও রয়েছে বিস্তারিত অভিযোগ যাহা বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ ইলিয়াস খান তার লিখিত অভিযোগে তুলে ধরেন।লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন সাবেক সুপার মাওঃজিয়াউল হক ফারুকী গত ২২-০৮-২০০০ ইং তারিখে তৎকালীন মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ সালাহউদ্দিন(ভারপ্রাপ্ত),জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে সাবেক শিক্ষক মোঃ মাসুদুর রহমান (শারীরিক শিক্ষা), মোঃসেকান্দার আলী( করনীক)এবং মোঃ হযরত আলী( নৈশ প্রহরী) সহ মোট ০৩ জনকে নিয়োগ প্রদান করেছিলেন।

পরবর্তীতে নিয়োগকৃত ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে দুদক মামলা দিলে নিয়োগ কৃত ব্যাক্তিদ্বয়ের চাকরি চলে যায় এবং তাদের ভোগকৃত সমুদয় অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত প্রদান করেন। সাবেই এই সুপার মোঃ জিয়াউল হক ফারুকী চাকরিশ্চুৎ এই তিন প্রার্থীর কাছ থেকে পূনরায় অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ে গত ২৬-০৮-২০০৯ ইং তারিখে বিধিবহির্ভূত নিয়োগ প্রদান করেছেন। এমনকি বিধিবহির্ভূত ভাবে নিয়োগ প্রদান করেছেন বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত নারী কেলেংকারী ঘটনার সাথে যুক্ত তার পুত্র মোঃ আমিনুল ইসলাম আল আমিন(করনিক)কে যিনি বর্তমানে এই মাদ্রাসায় ই কর্মরত আছেন। ঘটনার লিখিত বিবরণ থেকে আরও জানা যায় গত ২৫-১০-২০২১ ইং তারিখের উপস্থিত ছিলেন সাবেক সেই সুপার মোঃ জিয়াউল হক ফারুকীর ছেলে আমিনুল ইসলাম আল আমিন(করনীক)।মিটিংএ বিগত দুর্নীতির  আলোচনা শুরু হলে আমিনুল ইসলাম আল আমিন বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ ইলিয়াস খান কে প্রকাশ্যে শুয়োরের বাচ্চা বলে গালি দেয়,এবং তাকে শারীরিক ও মানুষিক ভাবে অকথ্য ভাষায় গালাগাল দেয়। ইলিয়াস খান বলেন, পরবর্তীতে তাদের পিতাপুত্রের দুর্নীতির তথ্য ঢাকার জন্য বিভিন্ন ভাবে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য উপাত্ত দিয়ে সাংবাদিক এনে নিউজ করায় এবং তাদের কতিপয় ভাড়াটে লোকজন দিয়ে মানব বন্ধন করায়। আমি মাদ্রাসার উন্নয়নের স্বার্থে এর সুষ্ঠু তদন্তের দাবী করছি এবং দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবী জানাচ্ছি। দেবত্র এন. ইসলাম দাখিল মাদ্রাসার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সুপার মোঃ এনামুল হক তার দেয়া লিখিত বক্তব্যে বলেন,আমি গত ০১-০৯-১৯৭৯ তাং থেকে অত্র মাদ্রাসার সহঃসুপার পদে কর্মরত আছি।সাবেক সুপার জিয়াউল হক ফারুকী অদ্যাবধি পর্যন্ত অত্র মাদ্রাসার আয় ব্যয়ের কোনো হিসাব আমার কাছে প্রদান করে নাই।

আমি ভারপ্রাপ্ত সুপার হওয়ার পর আমার অগোচরে রেজুলেশন ব্যাতিত মাদ্রাসার দুটি টিনসেড ঘরের ক্লাসরুম ভেঙ্গে তার কাঠ ও টিন নিয়ে যায়।১৯৮৬ সাল থেকে সাবেক সুপার মাওঃজিয়াউল হক ফারুকী অত্র মাদ্রাসার জমির ভোগদখল ব্যাক্তিগত ভাবে করতে থাকে। এবং জমির আয় মাদ্রাসা ফান্ডে প্রদান করে নাই।গত ২৫-১০-২০২১ ইং তারিখে মাদ্রাসা অফিসে সভাপতি ইলিয়াস খান শিক্ষকদের নিয়ে মিটিং ডেকে মাওলানা মাওলানা জিয়াউল হক ফারুকীর কাছে আয়- ব্যয়ের হিসাব চাওয়া হলে সাবেক সুপার এবং তার ছেলে  আমিনুল ইসলাম আল আমিন এই মাদ্রাসার বর্তমান কেরানী পদে কর্মরত তারা মিলে বহিরাগত আরও লোকজন নিয়ে আমি মোঃ এনামুল হক (ভারপ্রাপ্ত সুপার) এবং সভাপতি ইলিয়াস খানের বিরুদ্ধে উল্টো নিয়োগ বানিজ্যের মিথ্যা অভিযোগ তুলে এবং টাকা দিয়ে বিভিন্ন লোক ও মহিলা ঠিক করে তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন মিথ্যা জগন্য ও কুরুচিপূর্ণ অভিযোগ তুলে মানব বন্ধন করে আমাদের মানহানি করে। অভিযোগের বিষয় সাবেক সুপার মাওঃ জিয়াউল হক ফারুকীর সাথে জানার জন্য তার মুঠোফোনে বার বার ফোন দিলেও সে রিসিভ করেনি।

সার্বিক বিষয়টি নিয়ে এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজমান।  এলাকাবাসী জানিয়েছেন,সাবেক সুপার মোঃ জিয়াউল হক ফারুকী এবং বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সুপার মোঃ এনামুল হক উভয় ই আপণ ভাই।তারা মনে করেন পারিবারিক কলহ এবং পারিবারিক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ই এসব জামেলার সৃষ্টি যাহা মাদ্রাসার সুনাম ক্ষুন্ন করছে। কেহ কেহ বলেছেন সাবেক সুপারের অপকর্ম ঢাকার জন্য ই উল্টো হয়রানি এবং হেনস্তার স্বীকার হচ্ছে মাদ্রাসার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সুপার মোঃ এনামুল হক এবং সভাপতি ইলিয়াস খান।

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা