1. admin@upokulbarta.news : admin :
  2. bangladesh@upokulbarta.news : যুগ্ম সম্পাদক : যুগ্ম সম্পাদক
  3. bholasadar@upokulbarta.news : বার্তা সম্পাদক : বার্তা সম্পাদক
রবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ০১:৫০ অপরাহ্ন

আশ্রায়ন প্রকল্পের আশ্রিত ১১০৭ পরিবার জীবনে ফুটছে আশার আলো পেলেন প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার

যুগ্ম সম্পাদক
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ১১ জুন, ২০২৪
  • ৬৮ বার পঠিত

শিপু ফরাজী,চরফ্যাশন\
এ এক অন্যরকম অনুভূতি এক এক বিস্ময বিষয় । এত দিন যারা রাস্তার পাশে, বস্তিতে, নদী ধারে ঝুপড়ির ঘরে জীবন কাটতো এই ঈদে তারা থাকবেন নিজ ভূমি ও বাড়িতে নিজের ঘরে। ঈদের আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই উপহার তাদের মধ্যে তৃপ্তির শেষ নেই ।আজ চরফ্যাশন উপজেলার ১১০৭ পরিবারের কাছে পৌঁছবে প্রধানমন্ত্রী এই উপহার । সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর অধীনে পঞ্চম পর্যায়ের দ্বিতীয় ধাপেএর অধীরে ঘর পাবে চরফ্যাশন উপজেলার ১হাজার একশ সাত পরিবার। ঈদুল আজহার আগে দেওয়া এই উপহার হাসি ফুটিয়েছে এসব পরিবারে।


আশ্রায়ন প্রকল্পে আশ্রিত পরিবার সাথে কথা বলে এই প্রকল্প নিয়ে আশ্রিতদের জীবনের হতাশা আর আশাজাগানিয়া অজানা অনেক কথাই জানাগেছে। হাজারীগঞ্জের ঝিনুক আশ্রায়নে আশ্রিত সত্তর বছরের বৃদ্ধা জোবেদা জানান, ৩০ বছর আগে দিনমজুর স্বামী মোস্তফা মারা যান। নিঃসন্তান জোবেদার যেমন আপনজন আর কেউ ছিল না তেমনি ছিল না মাঠাগোজার ঠিকানা। বিশাল এই পৃৃথিবীতে ভূমিহীন ইসমাইল-জোবেদার আপনজন বলতে যেমন কেউ নেই, তেমনি ছিল না নিজের কোন জমি বা মাথাগোঁজার ঠাই । নৌবাহিনীর করুণায় ২০ বছর আগে হাজারীগঞ্জের ঝিনুক আশ্রায়ন প্রকল্পের একটি ঘর পান জোবেদা। সেই ঘরে হয়ে উঠে জোবেদার ঠিকানাহীন জীবনের ঠিকানা। সময়ের ব্যবধানে ঘরটি জরাজীর্ণ হয়ে যায়। মেরামত করার সামর্থ ছিল না পেশায় ভিক্ষাজীবী জোবেদার। পলিথিন মুড়িয়ে ওই ঠিকানা আকঁড়ে ছিলেন তিনি । এখন সরকারের উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসন জোবেদার জরাজীর্ণ ঘরটি পুনঃনির্মাণ কাজ শুরু করেছে ।ফলে জীবনসাহ্নে এসে সেমি পাকা ঝকঝক্ েএকটি নতুন ঘর জোবেদার জীবনে একঝলক হাসি হয়ে ধরা দিয়েছে।সব থেকেও সর্বহারা ষাটোর্ধ বিধবা ফাতেমার জীবনেও এক ঝলন হাসি হয়ে ধরা দিয়েছে আবাসন প্রকল্পের পুনঃনির্মাণ করা নতুন ঘর। ১৭ বছর আগে ২ ছেলে এবং ১ মেয়েকে রেখে মারা যান ফাতেমার স্বামী সামছল হক। স্বামীর মৃত্যুর পর স্বজনরা স্বামীর ভিটে থেকে ৩ সন্তানসহ ফাতেমাকে উচ্ছেদ করে দেন। ফলে ঠিকানাহীন হয়ে পরেন ষাটোর্ধ বিধবা ফাতেমা। এই অবস্থায় ৯ বছর আগে হাজারীগঞ্জের ঝিনুক আশ্রায়ন প্রকল্পের জরাজীর্ণ পরিত্যক্ত একটি ঘরে আশ্রয় নেন তিনি।পরিবারে উপার্জনক্ষম কেউ না থাকায় ঘরটি আর সংস্কার করাও হয়নি। এখন উপজেলা প্রশাসন ঘরটি পুনঃনির্মাণ উদ্যোগ নেয়ায় মহাখুশি এই বিধবা। পেশায় ভিক্ষাজীবী প্রতিবন্ধী ওমর ফারুক। বয়স ৭০ বছর। ২০ বছর আগে হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের ঝিনুক আশ্রায়ন প্রকল্পের একটি ঘর পান তিনি। এই ঘরে থেকেই স্ত্রী জয়নব এবং ৫ ছেলে এবং এক মেয়েকে নিয়ে বিশাল সংসারের ভার বয়েছেন ভিক্ষা করেই। কর্মক্ষম হওয়ার পর ছেলেরা বিয়ে করে প্রতিন্ধী বৃদ্ধ বাবা-মাকে ফেলে অন্যত্র চলে গেছেন। বিয়ে করে মেয়ে চলে গেছেন স্বামীর কাছে। প্রতিবন্ধী এই বৃদ্ধ জরাজীর্ণ ঘরটি পলিথিলিন মুড়িয়ে রোদ- ঝড়-বৃষ্টি থেকে রক্ষার চেষ্টা করলেও আর্থিক দৈণ্যতার কারণে ঘরটি সংস্কারের কথা চিন্তাও করতে পারেন নি।

সেই ঘরটি এখন পুনঃনির্মাণ কাজ শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন। ঘরটি পুনঃনির্মাণের এই আয়োজন প্রতিবন্ধী ফারুক-জয়নব দম্পতির কাছে মেঘ চাওয়ার আগেই বৃষ্টি হয়ে ধরা দিয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নওরীন হক জানান, ভাসমান দরিদ্র মানুষের আশ্রয় নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সময়ে টিনের ছাউনী আর টিনের বেরা বেষ্টিত এসব ঘর নির্মাণ করা হয়। ঘরগুলো এতো জরাজীর্ণ যে তা সংস্কারের উপযোগীও নেই। তাই আশ্রিত পরিবারগুলোর দুর্দশা লাগবের কথা ভেবেই ঘরগুলো মুজিববর্ষের ঘরের আদলে পুনঃনির্মাণের বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিগোচর করা হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে চরফ্যাশন উপজেলার ১হাজার একশ সাত পরিবারকে পুনঃ নির্মাণ করা ঘর দেয়া হচ্ছে। ঘরগুলো পুনঃনির্মাণে সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রত্যেকটি ঘর পুনঃনির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৩ লাখ ৪ হাজার টাকা। সেমি পাকা এসব ঘরে থাকছে রঙ্গিন টিনের ছাউনি। বারান্দাসহ ২টি কক্ষ, রান্নাঘর এবং একটি সংযুক্ত শৌচাগার । আছে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং পাকা ঘাটলাসহ পুকুর। এ ছাড়া হতদরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নে পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও ঋণ দেওয়া হচ্ছে। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে গড়ে তোলা হয়েছে গরুর খামার, দেওয়া হয়েছে সেলাই মেশিনের কাজ। হাঁস-মুরগি, কবুতর পালন ও শাকসবজি উৎপাদনসহ কৃষিকাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মজিব বর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী এই অভাবনীয় উদ্বেগ দেশকে গৃহহীন ও ভুমিহীন মুক্ত করবে বলেন ভোলা জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, চরফ্যাশন উপজেলার সাগরকæলের ইউনিযন গুলির বিভিন্ন গ্রামে গৃহীনদেরকে জমি সহ ঘর দিবেন মাননীয প্রধানমন্ত্রী আজ ।আর এরই ধারাবাহিকতায সারা দেশে বেশ কিছু উপজেলা জেলা কে গৃহীন ও ভূমিহীন মুক্ত জেলা উপজেলা ঘোষণা করবেন মাননীয প্রধানমন্ত্রী । ভাগ্যের নির্মাণ পরিহাস ও জীবন যুদ্ধের সংগ্রাম করে যারা এই পর্যন্ত এসেছেন নতুন এই ঘর তাদের স্বপ্ন পূরণের সহাযতা করবেন সেই সাথে জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যাওযার নতুন পরিকল্পনা ।
মঙ্গলবার (১১ জুন) বেলা ১১টায় তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে সুবিধাভোগীদের কাছে জমির মালিকানা দলিলসহ বাড়ি হস্তান্তর কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার জনাব শওকত আলী, অতিরিক্ত ডি-আইজি বরিশাল রেঞ্জ জনাব মো: শহীদুল্লাহ, জেলা প্রশাসক জনাব আরিফæজ্জামান, পুলিশ সুপার জনাব মাহিদুজ্জামান, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ফজলুল কাদের মজনু মোল্লা, উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব জয়নাল আবেদীন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব নওরীন হক

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা