1. admin@upokulbarta.news : admin :
  2. bangladesh@upokulbarta.news : যুগ্ম সম্পাদক : যুগ্ম সম্পাদক
  3. bholasadar@upokulbarta.news : বার্তা সম্পাদক : বার্তা সম্পাদক
শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নানা আয়োজনে পলিত হচ্ছে দৈনিক পত্রদূত সম্পাদক স.ম আলাউদ্দীন মৃত্যুবার্ষিকী সাতক্ষীরায় ২৪১ জনের মাঝে ১৭ লাখ টাকার অনুদানের চেক বিতরণ কুমিল্লায় দেশ ও জাতির কল্যাণে দোয়া ঈদ উপলক্ষে রেমালে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে খাদ্য বিতরণ করলো মাহাবুবা মতলেব তালুকদার ফাউন্ডেশন ৷ ভোলায় ঘুর্ণিঝড় রিমেলে ক্ষতিগ্রস্ত ২৫০ পরিবারের মাঝে ১৫ লক্ষ টাকা বিতরণ করল কোস্ট ফাউন্ডেশন মোংলায় দিন দুপুরে দোকান ঘর ভাংচুর ও জবর দখলের চেষ্টা বর্তমান সরকার অসহায় দুস্থদের সরকার-মেয়র শেখ আ: রহমান জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় পরিকল্পনা আছে বটে, কিন্তু বাস্তবায়নে বাজেট নেই বাগেরহাটে কলেজ শিক্ষকদের বেসিক আইসিটি প্রশিক্ষণের সনদ প্রদান বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ফকিরহাটের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানগণের শ্রদ্ধা নিবেদন

কবি মিনার মনসুর তরুণ সমাজের অনুপ্রেরনা (পর্ব-০১-০৬)রেজাউল করিম চৌধুরী

Rezaul Karim Chowdhury, Executive Director at COAST Foundation
  • আপডেট সময় : সোমবার, ৬ মে, ২০২৪
  • ১০৭ বার পঠিত
  • পর্ব- ০১

কবি মিনার মনসুরের একুশে পদক প্রাপ্তি উপলক্ষ্যে গত ২৭ এপ্রিল, শনিবার ধানমন্ডিতে বন্ধু ও স্বজন সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। জনাব মিনার মনসুর আমার সাথে বিভিন্ন সময় নেটওয়ার্কিং- এর কাজে জড়িত ছিলেন। গ্রন্থকেন্দ্রের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্তির পূর্বে তিনি কোস্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী ও সাধারণ পরিষদের সদস্য ও সহ-সভাপতি ছিলেন। আমি মনে করি, উনার জীবন থেকে আমাদের তরুণদের অনেক কিছু শেখার আছে। এই কারণে বন্ধু ও স্বজন সমাবেশে উনি যে বক্তব্য রেখেছেন তা আমি ৬টি পৃথক এপিসোডে প্রকাশ করলাম।

আয়োজনে মিনার মনসুর বলেন, জীবনের এই পর্যায়ে এসে এটা আমার জন্য খুব আনন্দের একটা অনুভূতি। আমি কবি বা বিপ্লবী কিছুই হতে চাই নি। আমি ছোটবেলায় একা ছিলাম। মা থাকতেন গ্রামের বাড়িতে, আমি থাকতাম শহরে।

ছোটবেলার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার সময় আমার জলবসন্ত হয়েছিল। তখনকার নিয়ম ছিল যে, জলবসন্ত হলে পরীক্ষা দেয়া যাবে না। আমি এই রোগ গোপন করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করি। আমার পরীক্ষার কেন্দ্র ছিল কলেজিয়েট স্কুল, চট্টগ্রাম। আমার বাড়ি ছিল কর্ণফুলী নদীর এক চরে, চট্টগ্রামের এক প্রান্তে। সেখানে আমার বাবা বাড়ি বানিয়েছিলেন। জোয়ারের সময় পানি আসত সেখানে। বছরের প্রায় তিন মাস আমাদের এলাকা পানিতে ডুবে থাকত। আমি যখন এসএসসি পরীক্ষা দিতে যাই, আমার জলবসন্ত তখনও শুকায় নি। আমার সারা শরীর কাঁপত। মাথায় হাত দিলে চুল উঠে আসত। ঐ অবস্থায় গায়ে চাদর জড়িয়ে আমি পরীক্ষা দিতে যেতাম। আমাকে শিক্ষক জিজ্ঞাসা করতেন, তুমি কেন চাদর গায়ে দিয়ে আছো? আমি উত্তর দিতাম, আমার জ্বর জ্বর লাগছে। পরীক্ষা শেষে বাইরে এসে দেখতাম, কেন্দ্রের বাইরে পরীক্ষার্থীদের মা-বাবারা নানা রকম খাবার নিয়ে তাদের সন্তানদের জন্য অপেক্ষা করছেন। আমি দেখতাম আর ভাবতাম যে, আমি কত দূর থেকে হেঁটে আসি, আমার জন্য কেউ দাঁড়িয়ে নেই বাইরে। তিনি বলেন, আমার গোটা জীবন আমি সংগ্রাম করেছি। গোটা জীবন আমি অনুভব করেছি যে, আমি একজন নিঃসঙ্গ মানুষ।

  • পর্ব-২

কবি মিনার মনসুরের একুশে পদক প্রাপ্তি উপলক্ষ্যে গত ২৭ এপ্রিল, শনিবার ধানমন্ডিতে বন্ধু ও স্বজন সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। জনাব মিনার মনসুর আমার সাথে বিভিন্ন সময় নেটওয়ার্কিং- এর কাজে জড়িত ছিলেন। গ্রন্থকেন্দ্রের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্তির পূর্বে তিনি কোস্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী ও সাধারণ পরিষদের সদস্য ও সহ-সভাপতি ছিলেন। আমি মনে করি, উনার জীবন থেকে আমাদের তরুণদের অনেক কিছু শেখার আছে। এই কারণে বন্ধু ও স্বজন সমাবেশে উনি যে বক্তব্য রেখেছেন তা আমি ৬টি পৃথক এপিসোডে প্রকাশ করলাম।

মিনার মনসুর বলেন, আমাকে ঘরে, পরিবারে, সমাজে লড়াই করতে হয়েছে এবং অন্যায় আমি একদম সহ্য করতে পারি না। যে বন্ধু প্রতারণা করে তাকে আমি গ্রহণই করতে পারি না। অতুল প্রসাদের একটি গানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, মন্দ লোক কাছে আসলে তার দিকে পিঠ দিয়ে চলা উচিৎ।

মুক্তিযুদ্ধ এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে দেশে যখন মুক্তিযুদ্ধ হয় তখন আমি আমার ভাইদের যুদ্ধ করতে দেখেছি। আমি নিজে যুদ্ধে যেতে পারি নি, কারণ তখন আমি সবেমাত্র ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে যখন হত্যা করা হয় আমি ভেবেছিলাম ‘৭১- এর সেই বীর মুক্তিযোদ্ধারা আবার যুদ্ধ করবে। ১৯৭৫ সালে আমি এসএসসি পাস করি। সবে মাত্র আমার কলেজ জীবন শুরু হবে। আমি ভেবেছিলাম এবারের যুদ্ধে আমি অংশগ্রহণ করব। হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে আমরা দুই ভাই বাসা থেকে বেরিয়ে পড়ি। যাতে একসাথে মারা না যাই এজন্য দুইজন দুই দিকে ছুটে গেলাম। সারাদিন শহরে ঘুরলাম। অস্ত্র কোথায়? যুদ্ধের কমাণ্ডার কোথায়? কেউ ছিল না সেখানে। আওয়ামী লীগের যত নেতাকে চিনতাম, তাদের বাসায় বাসায় ঘুরলাম। দেখলাম তাদের দরজা বন্ধ। এভাবেই কেটে গেল আমাদের ১৯৭৫, ১৯৭৬, ১৯৭৭।

  • পর্ব -৩

কবি মিনার মনসুরের একুশে পদক প্রাপ্তি উপলক্ষ্যে গত ২৭ এপ্রিল, শনিবার ধানমন্ডিতে বন্ধু ও স্বজন সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। জনাব মিনার মনসুর আমার সাথে বিভিন্ন সময় নেটওয়ার্কিং- এর কাজে জড়িত ছিলেন। গ্রন্থকেন্দ্রের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্তির পূর্বে তিনি কোস্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী ও সাধারণ পরিষদের সদস্য ও সহ-সভাপতি ছিলেন। আমি মনে করি, উনার জীবন থেকে আমাদের তরুণদের অনেক কিছু শেখার আছে। এই কারণে বন্ধু ও স্বজন সমাবেশে উনি যে বক্তব্য রেখেছেন তা আমি ৬টি পৃথক এপিসোডে প্রকাশ করলাম।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যু পরবর্তী ঘটনাসমূহের স্মৃতিচারণ করে মিনার মনসুর বলেন, ১৯৭৬ সালে আমাদেরকে প্রভাতফেরি করতে দেওয়া হয় নি। শহীদ মিনারের সামনে বালির বস্তা এবং মেশিনগান বসানো হলো। আমরা ঠিক করলাম যে, আমরা শহীদ মিনারে যাবো। আমরা সাতজন গিয়েছিলাম সেবার শহীদ মিনারে। আমরা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে একবার কাঙালি ভোজ করার চেষ্টা করেছিলাম। আর্মিরা আমাদের ঘিরে ধরে জিজ্ঞাসা করছিল, নেতা কে? আমি গিয়ে বললাম, আমি নেতা। আর্মিরা আমার কথা বিশ্বাস করে নি। ওরা আমাদের হাঁড়ি-পাতিলগুলো পুকুরে ফেলে দিয়েছিল।

তাঁর লেখালেখি সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি কলম হাতে নিয়েছিলাম ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পরে। নির্মলেন্দু গুণের কবিতা পড়ে আমি বুঝতে পারি যে কলমের কত শক্তি! তিনি নির্মলেন্দু গুণের সেই বিখ্যাত কবিতার কথা উল্লেখ করেন যার কারণে কবিকে পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়েছিল এবং তিনি আলামত নষ্ট করার জন্য কবিতার পাতা খেয়ে ফেলেছিলেন। কবি মিনার মনসুর নির্মলেন্দু গুণের সেই কবিতা সংগ্রহ করে বিভিন্ন জায়গায় বিতরণ করেছিলেন। তিনি অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরীর কথা স্মরণ করে বলেন, সেই সময় অনেকেই পোশাক পরিবর্তন করেছিল। কিন্তু আব্দুল মতিন চৌধুরী কখনও মাথা নত করেন নি।

  • পর্ব- ৪

কবি মিনার মনসুরের একুশে পদক প্রাপ্তি উপলক্ষ্যে গত ২৭ এপ্রিল, শনিবার ধানমন্ডিতে বন্ধু ও স্বজন সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। জনাব মিনার মনসুর আমার সাথে বিভিন্ন সময় নেটওয়ার্কিং- এর কাজে জড়িত ছিলেন। গ্রন্থকেন্দ্রের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্তির পূর্বে তিনি কোস্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী ও সাধারণ পরিষদের সদস্য ও সহ-সভাপতি ছিলেন। আমি মনে করি, উনার জীবন থেকে আমাদের তরুণদের অনেক কিছু শেখার আছে। এই কারণে বন্ধু ও স্বজন সমাবেশে উনি যে বক্তব্য রেখেছেন তা আমি ৬টি পৃথক এপিসোডে প্রকাশ করলাম।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা উল্লেখ করে মিনার মনসুর বলেন, আমি নারী ও শিশু হত্যার বিচার চেয়েছিলাম। বঙ্গবন্ধুর পুত্রবধূ সুলতানা কামালের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, আমরা সুলতানা কামালের ভক্ত ছিলাম। তিনি মিষ্টি একজন মানুষ ছিলেন, একের পর এক পুরস্কার অর্জন করেছেন। তাঁকে এখানে মেরে ফেলা হলো। অথচ কেউ কোনো প্রতিবাদ করলো না। মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র কোথায় গেল? নেতারা হঠাৎ করে পোশাক পরিবর্তন করে ফেলল। এই ঘটনার পর আমি আমার কলম ছাড়ি নি। আমি প্রতিদিন মনে করতাম, আজকে আমি মারা যাবো। আমি আমার জীবনটাই বাজি ধরেছিলাম। আমার মনে হয়েছিল, বঙ্গবন্ধু মরে যাওয়ার পর, তাঁর শিশুপুত্র মরে যাওয়ার পর, তাঁর পরিবার মরে যাওয়ার পর আমার বাঁচার কোনো অধিকার নেই। অনেকবার আমি মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছি। আমার বই বাজেয়াপ্ত হয়েছে। আমাকে একদিকে মোল্লারা খুঁজত মেরে ফেলার জন্য, আরেক দিকে আর্মি। আমি লম্বা দাঁড়ি রেখেছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আমাকে তাঁর বাসায় আশ্রয় দিয়েছিলেন কিছুদিনের জন্য।

চাকরি জীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, বিয়ের পর যখন চাকরিতে প্রবেশ করি, সেই চাকরিতেও আমাকে আর্মি ছাড়ল না। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর আমাদের নামে পাঁচটি মামলা দিল। তন্মধ্যে তিনটি ছিল রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা। ভারত থেকে ৩০০ কোটি টাকা নিয়ে খালেদা জিয়া সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অপরাধে মামলা দেওয়া হয়েছিল। অবিলম্বে আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লিখিত নির্দেশ ছিল সকল গোয়েন্দা সংস্থার উপর। সেই লিখিত নির্দেশনার কপি এখনও রয়েছে আমার কাছে। গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন যখন আমার অফিসে ঢুকত তখন সবাই প্যানিকড হয়ে যেত, মনে হত আমি না জানি কত বড় একজন অপরাধী।

  • পর্ব-৫

কবি মিনার মনসুরের একুশে পদক প্রাপ্তি উপলক্ষ্যে গত ২৭ এপ্রিল, শনিবার ধানমন্ডিতে বন্ধু ও স্বজন সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। জনাব মিনার মনসুর আমার সাথে বিভিন্ন সময় নেটওয়ার্কিং- এর কাজে জড়িত ছিলেন। গ্রন্থকেন্দ্রের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্তির পূর্বে তিনি কোস্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী ও সাধারণ পরিষদের সদস্য ও সহ-সভাপতি ছিলেন। আমি মনে করি, উনার জীবন থেকে আমাদের তরুণদের অনেক কিছু শেখার আছে। এই কারণে বন্ধু ও স্বজন সমাবেশে উনি যে বক্তব্য রেখেছেন তা আমি ৬টি পৃথক এপিসোডে প্রকাশ করলাম।

চাকরি জীবনের স্মৃতিচারণ করে মিনার মনসুর বলেন, মামলার পর গোয়েন্দারা আমার বাসা তছনছ করে ফেলেছিল টাকা খুঁজতে গিয়ে। আমি তখন তাদেরকে বললাম, টাকা যখন আমি নিয়েছি তাহলে এখানেই কোথাও না কোথাও আছে। আপনারা খুঁজে বের করেন। শেষ পর্যন্ত টাকাটা তারা খুঁজে পায় নি। কিন্তু আমাকে এবং মতিন ভাইকে টানা পাঁচ বছর প্রতি মাসে একবার করে সদরঘাটের জেলা জজ কোর্টে অপরাধীদের সাথে জামিনের হাজিরা দিতে হয়েছে। এদিকে আমার দুইটা সন্তান, তাদের দুধ কেনার টাকা পর্যন্ত ছিল না। তখন রেজাউল করিম চৌধুরী ভাই আমাকে বললেন, “মিনার ভাই, আপনি আমার অফিসে এসে বসেন, কেউ জানবে না”। উনি আমাকে আলাদা বিল্ডিংয়ে বসালেন এবং একটা রুম, একটা কম্পিউটার দিয়েছিলেন। তখন আমি কম্পিউটার চালাতে পারতাম না। কারণ, আমি যেসব চাকরি করেছি, সেখানে আমাকে কম্পিউটারে টাইপ করে দেওয়ার জন্য আলাদা লোক থাকত। তিনি বলেছিলেন, “আমার এখানে কোনো পিয়ন নাই। আপনাকে কম্পিউটারে টাইপ করতে হবে, নিজের চা নিজেকেই করে নিতে হবে”। আমাকে প্রায় মেরেই ফেলত- এমন অবস্থায় রেজা ভাই আমাকে নিরাপত্তা দিয়েছিলেন।

মিনার মনসুর বলেন, আমার গোটা জীবনটাই সংগ্রামের জীবন। আমি কবি হতে চাই নি, বিপ্লবী হতে চাই নি, একুশে পদক চাই নি, কিছুই চাই নি। আমি শুধু অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে চেয়েছি।

পর্ব-৬

কবি মিনার মনসুরের একুশে পদক প্রাপ্তি উপলক্ষ্যে গত ২৭ এপ্রিল, শনিবার ধানমন্ডিতে বন্ধু ও স্বজন সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। জনাব মিনার মনসুর আমার সাথে বিভিন্ন সময় নেটওয়ার্কিং- এর কাজে জড়িত ছিলেন। গ্রন্থকেন্দ্রের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্তির পূর্বে তিনি কোস্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী ও সাধারণ পরিষদের সদস্য ও সহ-সভাপতি ছিলেন। আমি মনে করি, উনার জীবন থেকে আমাদের তরুণদের অনেক কিছু শেখার আছে। এই কারণে বন্ধু ও স্বজন সমাবেশে উনি যে বক্তব্য রেখেছেন তা আমি ৬টি পৃথক এপিসোডে প্রকাশ করলাম।
নিজের জীবন সম্পর্কে বলতে গিয়ে মিনার মনসুর বলেন, প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমি ভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়েছি। অনেকবার আমাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। আমার শিক্ষক ড. মোঃ আবু হেনা মোস্তফা কামাল যদি না থাকতেন আমার পাশে সরকার আমাকে যে চাকরি দিয়েছে সেই চাকরি আমি তিন মাসও করতে পারতাম না। উনি নিজে আমার অফিসে চলে যেতেন আমাকে ভরসা দেওয়ার জন্য। আমি শেষ পর্যন্ত একটা কথাই বলতে চাই যে, আমি গ্রামের সাধারণ পরিবারের সন্তান। আমার পরিবারে খ্যাতিমান কেউ নেই। এই জীবনটা আমার একার নয়। অসংখ্য মানুষ আমাকে তৈরি করেছে।
একজন আমাকে মেরে ফেলতে চেয়েছে,আরেকজন আমাকে আশ্রয় দিয়েছে। আজকে আপনারা যাকে দেখছেন অনেকে মিলে তাকে তৈরি করেছে। আজকে আমি যে একুশে পদক পেয়েছি সেটা আসলে আমার প্রাপ্য নয়। আমার মতো হাজার হাজার তরুণ বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করেছিল, স্বৈরাচারের প্রতিবাদ করেছিল। তাদের অনেকেই বিনা চিকিৎসায় মারা গিয়েছে, অবহেলায়, অনাদরে মারা গিয়েছে। যারা অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিল তাদের সকলের মধ্যে আমি ভাগ্যবান। আমরা কয়েকজন খুব ভাগ্যবান। আমরা চাকরি পেয়েছি, স্বচ্ছলতা পেয়েছি, পদক পেয়েছি। কিন্তু এগুলো আসলে আমাদের না। হাজার হাজার তরুণ জেল খেটেছে, জীবন দিয়েছে। আপনারা সকলেই আমাকে তৈরি করেছেন। আপনাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জানিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি।
এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা