1. admin@upokulbarta.news : admin :
রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ০১:৫৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পশ্চিম চর উমেদ ইউপি নির্বাচন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে ইভটিজিং বন্ধ করবেন সালেম হাওলাদার ভোলায় সাংবাদিক মহিউদ্দিনের উপর হামলায় গণমাধ্যমে নিন্দা-প্রতিবাদের ঝড় যৌতুকের দাবিতে পুত্রবধূকে মারধরের অভিযোগ শশুর শাশুড়ির বিরুদ্ধে মাছ শিকারে ২ মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে গুরু -আঃ সামাদ ভোলার লালমোহন পশ্চিম চর উমেদ ইউপি নির্বাচন লালমোহন পশ্চিম চর উমেদ ইউপি নির্বাচন শিক্ষার মানোন্নয়ন করতে চান চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যক্ষ সেলিম নারীর গুণ – আঃ সামাদ দৌলতখানে যুব রেড ক্রিসেন্টে দলনেতা মাশরাফি উপ-নেতা ইমতিয়াজ ও রহিমা মোংলায় ৫ শতাধিক চক্ষু রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান

৩২ আসন ছাড়ে আওয়ামী লীগের কৌশল

নিজস্ব প্রতিবেদক :
  • আপডেট সময় : সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ৪১ বার পঠিত
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের শরিকদের ৩২ আসনে সমঝোতা করেছে আওয়ামী লীগ। তবে এসব আসনে সমঝোতা করলেও নৌকার প্রার্থী থাকছেন ২৬৯ জন। কারণ ৬ আসনে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের শরিকদের সঙ্গে সমঝোতা করলেও তারা নৌকা নিয়েই নির্বাচনে অংশ নেবেন। আর বাকি জাতীয় পার্টিকে ছাড় দেওয়া ২৬ আসনের মধ্যে ২৫টিতে নৌকার প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। তবে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আওয়ামী লীগ আগে কোনো প্রার্থী দেয়নি। সেখানে জাতীয় পার্টির সেলিম ওসমান নির্বাচন করছেন।
এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, কী কারণে ২৬ আসনে সমঝোতা করল আওয়ামী লীগ? তবে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলছেন, দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতেই আসন সমঝোতা করতে হয়েছে। কারণ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য না হলে দেশি-বিদেশি এক ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারে আওয়ামী লীগ। আর যেহেতু বিএনপি নির্বাচনে আসেনি, তাই জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনি মাঠে রাখা আওয়ামী লীগের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতীয় পার্টিকে আসন ছাড় দিয়েছে আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা সময়ের আলোকে বলেন, আওয়ামী লীগের জন্য দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে নানা কৌশল নিতে হয়েছে আওয়ামী লীগকে। এমনকি নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকেও রয়েছে নানা ধরনের চাপ। এই চাপ মোকাবিলায় জাতীয় পার্টিকে কাছে টানতে হয়েছে। কারণ বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়নি। ফলে নির্বাচন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশগ্রহণমূলক দেখাতে হলে জাতীয় পার্টির বিকল্প নেই। সংগত কারণে জাতীয় পার্টির সঙ্গে আসন সমঝোতায় যেতে হয়েছে। তাদের সঙ্গে আসন সমঝোতা না হলে জাতীয় পার্টি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেবে এমন হুমকি দিয়েছিল। তারা নির্বাচন থেকে সরে গেলে, নির্বাচন নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার জন্ম হতো। এসব আলোচনা-সমালোচনা বন্ধ করে দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেকোনো উপায়ে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক দেখাতে হবে। পাশাপাশি সংসদে একটি শক্তিশালী বিরোধী দলেরও খুব প্রয়োজন। ফলে জাতীয় পার্টির প্রতীক লাঙ্গলে নির্বাচন করলে, তারা আসন পেত ৩ থেকে ৫টি। এতে শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা খুব কঠিন হয়ে পড়ত। এতে জাতীয় পার্টির বিকল্প দেখছে না আওয়ামী লীগ। এর বাইরে আর যেসব দল নির্বাচনে অংশ নিয়েছে, তাদের দিয়ে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করা সম্ভব নয়।
অন্যদিকে রোববার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলীয় জোটকে ৩২টি আসনে ছাড় দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এরমধ্যে জাতীয় পার্টি পেয়েছে ২৬টি আসন ও ১৪ দলীয় জোটের শরিকরা পেয়েছেন ৬টি আসন। এসব আসনের আওয়ামী লীগের প্রতীক নৌকার প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। আর যাদের ছাড় দেওয়া হয়েছে তারা হলেন-ঠাকুরগাঁও-৩ হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, নীলফামারী-৩ রানা মোহাম্মদ সোহেল, নীলফামারী-৪ আহসান আদেলুর রহমান, রংপুর-১ হোসেন মুকুল শাহরিয়ার, রংপুর-৩ জিএম কাদের, কুড়িগ্রাম-১ এ কে এম মুস্তাফিজুর রহমান, কুড়িগ্রাম-২ পনির উদ্দিন আহমেদ, গাইবান্ধা-১ শামীম হায়দার পাটোয়ারী, গাইবান্ধা-২ আবদুর রশিদ সরকার, বগুড়া-২ শরিফুল ইসলাম জিন্না, বগুড়া-৩ মো. নুরুল ইসলাম তালুকদার, সাতক্ষীরা-২ মো. আশরাফুজ্জামান, পটুয়াখালী-১ এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, বরিশাল-৩ গোলাম কিবরিয়া টিপু, পিরোজপুর-৩ মুশরেকুল আজম রবি, ময়মনসিংহ-৫ সালাহউদ্দিন আহমেদ ময়মনসিংহ-৮ ফখরুল ইমাম, কিশোরগঞ্জ-৩ মুজিবুল হক চুন্নু, মানিকগঞ্জ-১ জহুরুল আলম রুবেল, ঢাকা-১৮ শরিফা কাদের, হবিগঞ্জ-১ মো. আবদুল মুনিম চৌধুরী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আবদুল হামিদ, ফেনী-৩ মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৫ আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, চট্টগ্রাম-৮ মো. সোলাইমান আলম শেঠ। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ-৫-এ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোনো প্রার্থী আগে দেওয়া হয়নি।
১৪ দলীয় জোটের পাওয়া আসনগুলো হলো-কুষ্টিয়া-২ জাসদের হাসানুল হক ইনু, লক্ষ্মীপুর-৪ মোশাররফ হোসেন ও বগুড়া-৪ রেজাউল করিম তানসেন। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন বরিশাল-২, ফজলে হোসেন বাদশা রাজশাহী-২। জাতীয় পার্টির (জেপি) আনোয়ান হোসেন মঞ্জু পিরোজপুর-২।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের এক সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সময়ের আলোকে বলেন, আমরা বেশ কয়েক দিন ধরেই নানা হিসাব-নিকাশ মেলানোর চেষ্টা করছিলাম। অবশেষে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে জাতীয় পার্টির সঙ্গে আসন সমঝোতা হয়েছে। কারণ নির্বাচন নিয়ে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র রয়েছে। তা ছাড়া সংসদে একটি বিরোধী দল থাকার প্রয়োজন রয়েছে। সে ক্ষেত্রে জাতীয় পার্টিকে আসন ছাড় না দিলে তাদের বিরোধী দল হিসেবে থাকার সুযোগ থাকবে না। এ কারণেই তাদের ২৬ আসনে ছাড় দেওয়া হয়েছে। আর ১৪ দলের শরিকদের ছাড় দেওয়া হয়েছে, তারা আমাদের মিত্র শক্তি তাই।
আওয়ামী লীগের এক সাংগঠনিক সম্পাদক নাম প্রকাশ না করার শর্তে সময়ের আলোকে বলেন, আসন্ন নির্বাচন নিয়ে ইতিমধ্যে দেশি-বিদেশি চাপ রয়েছে। এসব চাপ সামলাতেই মূলত আওয়ামী লীগ আসন সমঝোতার পথ বেছে নিয়েছে। কারণ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করতে আন্তর্জাতিক ব্যাপক চাপ রয়েছে। এ ছাড়া বিএনপি যেহেতু নির্বাচনে অংশ নেয়নি, তাই সংসদে বিরোধী দলের প্রয়োজন রয়েছে। জাতীয় পার্টি তাদের লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করলে তারা হয়তো ৩-৫টি আসন পেত। তাতে সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দল হয় না। তাই জাতীয় পার্টিকে ২৬ আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আর যেহেতু কেন্দ্রীয় ১৪ দল আওয়ামী লীগের মিত্র। তাই ১৪ দলের শরিকদের ৬টি আসন ছেড়ে দিয়েছে।
নৌকার টিকেট পেয়েও যাদের ভোটে যাওয়া হলো না : আওয়ামী লীগ ৩০০ আসনের মধ্যে দুটি বাদ রেখে এবার ২৯৮ আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছিল। তাদের মধ্যে ৫ জন বাদ পড়েছেন নির্বাচন কমিশনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং আপিলে। আর বাকি ৩০ জন বাদ পড়েছেন জাতীয় পার্টি এবং ১৪ দলের সঙ্গে সমঝোতার কারণে। ফলে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেও জোটগত হিসাব-নিকাশ এবং বাছাই ও আপিল করেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে ছিটকে পড়েছেন ৩৫ প্রার্থী। দ্বৈত নাগরিকত্ব ও ঋণখেলাপি হওয়ার কারণে ছিটকে পড়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনীত ৫ প্রার্থী। তারা হলেন-এনামুল হক বাবুল যশোর-৪, শাম্মী আহমেদ বরিশাল-৪, আবদুস সালাম ময়মনসিংহ-৯, শামীম হক ফরিদপুর-৩, সালাহ উদ্দীন আহমদ কক্সবাজার-১। আর জাতীয় পার্টির সঙ্গে সমঝোতায় বাদ গেলেন ২৫ জন। এবারের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির লড়াই সহজ করতে মোট ২৬টি আসনে প্রার্থী রাখেনি আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয় পার্টির সেলিম ওসমানের জায়গায় শুরু থেকেই প্রার্থী ঘোষণা করেনি আওয়ামী লীগ। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে এসে আরও ২৫টি আসন থেকে নৌকার প্রার্থীকে সরিয়ে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। এদের মধ্যে রয়েছেন-মো. ইমদাদুল হক ঠাকুরগাঁও-৩, মো. গোলাম মোস্তফা নীলফামারী-৩, মো. জাকির হোসেন বাবুল নীলফামারী-৪, মো. রেজাউল করিম রাজু রংপুর-১, তুষার কান্তি মণ্ডল রংপুর-৩, মো. আছলাম হোসেন সওদাগর কুড়িগ্রাম-১, মো. জাফর আলী কুড়িগ্রাম-২, আফরুজা বারী গাইবান্ধা-১, মাহবুব আরা বেগম গিনি গাইবান্ধা-২, তৌহিদুর রহমান মানিক বগুড়া-২, মো. সিরাজুল ইসলাম খান রাজু বগুড়া-৩, মো. আসাদুজ্জামান বাবু সাতক্ষীরা-২, মো. আফজাল হোসেন পটুয়াখালী-১, সরদার মো. খালেদ হোসেন বরিশাল-৩, মো. আশরাফুর রহমান পিরোজপুর-৩, মো. আবদুল হাই আকন্দ ময়মনসিংহ-৫, মো. আবদুছ ছাত্তার ময়মনসিংহ-৮, মো. নাসিরুল ইসলাম খান কিশোরগঞ্জ-৩, মো. আবদুস সালাম মানিকগঞ্জ-১, মোহাম্মদ হাবিব হাসান ঢাকা-১৮, ডা. মো. মুশফিক হুসেন চৌধুরী হবিগঞ্জ-১, মো. শাহজাহান আলম ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, মো. আবুল বাশার ফেনী-৩, মোহাম্মদ আবদুস সালাম চট্টগ্রাম-৫, নোমান আল মাহমুদ চট্টগ্রাম-৮।
আর ১৪ দলীয় জোট শরিকদের মোট ৬ প্রার্থী এবার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে ভোট করবেন। সে কারণে পাঁচ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে। তারা হলেন-মো. হেলালউদ্দিন কবিরাজ বগুড়া-৪, মোহাম্মদ আলী রাজশাহী-২, তালুকদার মো. ইউনুস বরিশাল-২, কানাই লাল বিশ্বাস পিরোজপুর-২ ও ফরিদুন্নাহার লাইলী লক্ষ্মীপুর-৪।
এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা